গোয়ালন্দের দেড় কোটি টাকার সড়কে মান নিয়ে প্রশ্ন অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

গোয়ালন্দের দেড় কোটি টাকার সড়কে মান নিয়ে প্রশ্ন অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার গোয়ালন্দ পৌরসভার মাল্লাপট্টি ব্রিজসংলগ্ন ডাম্পিং প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কের কাজ নিয়ে নির্মাণমান ও ব্যবহৃত উপকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও গাইড ওয়াল (প্যারাসাইড) নির্মাণে কোথাও কোথাও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি প্রকৌশলগত কিছু বিষয় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি নজরে আসার পর ত্রুটিপূর্ণ উপকরণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পটি আরও টেকসই করতে নকশায় বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও প্যালাসাইডিং (গাইড ওয়াল) নির্মাণকাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬০ মিটার এবং ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজটির ঠিকাদারী পেয়েছে বিসমিল্লাহ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

জানা যায়, চার মাস মেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২১ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণ- কাজের একপর্যায়ে পাথরের সঙ্গে ইটের রাবিশের খোয়া মিশিয়ে (প্যারাসাইডিং) গাইড ওয়ালের কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ- মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। পরে স্থানীয়দের আপত্তির পর ওই খোয়া সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পাথর, বালু, সিমেন্ট, ইট ও রডের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। (প্যারাসাইডিং) গাইড ওয়ালের খুঁটিতে প্রয়োজনীয় রড ব্যবহার, রডের নির্ধারিত মাপ, খুঁটির গভীরতা ও নির্মাণের অন্যান্য প্রকৌশলগত বিষয় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা নিয়েও তারা সঠিকভাবে যাচাই বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, (প্যারাসাইডিং) গাইড ওয়ালের কিছু অংশে ফাটল দেখা গেছে। এতে কাজ শেষ হওয়ার পর সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকল্পের কাজ শেষ করার আগে স্বাধীনভাবে নির্মাণসামগ্রী ও কাজের মান পরীক্ষা করা হোক।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি আরও টেকসই করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নকশায় বেশকিছু পরিবর্তন করা হয়েছে।

পাথরের সঙ্গে ইটের রাবিশ মেশানোর বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকরা ভুলবশত রাতের আঁধারে পাথরের সঙ্গে ইটের রাবিশ মিশিয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর তা সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রকল্পের কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের নির্মাণমানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগগুলো যাচাই বাছাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে কাজে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩০ পৌরসভার ডিপিডি মাহমুদ টিপু জানিয়েছেন, ডাম্পিং প্রকল্পসহ সড়ক নির্মাণের কাজে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, এর আগে একই এলাকায় নির্মাণাধীন সড়ক ও (প্যারাসাইডিং) গাইড ওয়ালের কাজ নিয়ে নিম্নমানের ইট, প্রাইম কোট যথাযথভাবে না দেওয়া, (প্যারাসাইডিং) গাইড ওয়ালের অংশবিশেষে ফাটল ও ধসের মতো অভিযোগও প্রকাশ্যে আসে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের পক্ষ থেকে বৃষ্টির কারণে কিছু সমস্যা হতে পারে এবং তা পরে মেরামতের কথা বলা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যেন অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট না হয়, সে জন্য কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রতিটি ধাপের মান যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে গাইড ওয়াল (প্যারাসাইডিং), সড়কের বেড, খোয়া, পাথর, বালু, সিমেন্ট, রড ও অন্যান্য উপকরণের মান পরীক্ষার পাশাপাশি নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকিতে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে ডাম্পিং প্রকল্পে যাতায়াতসহ স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top